অনলাইন ডেস্ক:
বিশেষ করে কিশোরীদের কাছে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় পিরিয়ড। বহু নারীও এ সংক্রান্ত নানা জটিলতায় ভোগেন। তারা যতটা না শারীরিক সমস্যায় থাকেন, তার চেয়ে বেশি মানসিক চাপ ভর করে। কারণ যুগে যুগে এই প্রাকৃতিক বিষয়টি নিয়ে বহু বিদঘুটে গুজব ছড়িয়ে রয়েছে। অনেকের কাছে এগুলো সত্য তথ্য বলে প্রতিষ্ঠিত।
২০১৪ সাল থেকে মিনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে পালন শুরু হয়। এর লক্ষ্য হলো, পিরিয়ড সংক্রান্ত সকল প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করা। নারীদেহের সহজাত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ এটি। পৃথিবীর অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীদের মাঝে ভুল ধারণা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বলে জানায় অ্যাকশনএইড চ্যারিটি। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট ভুল ধারণাগুলো আফ্রিকা ও এশিয়াতেই বেশি ছড়িয়ে রয়েছে। এ বছরের মিনস্ট্রুয়াল হাইজিনকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা এখানে তুলে ধরছেন বেশ কিছু প্রচলিত বিদঘুটে ভুল ধারণার কথা। এগুলো জেনে নিন।
১. প্লাইনি দ্য এল্ডার নামের একজন রোমান পরিবেশবিদ ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এ রক্ত ফসলের গোড়ায় দিলে তা নির্জীব হয়ে যায়। ফলের গাছের গোড়ায় দিলে ফল পড়ে যায়। বীজে দিলে তা শুকিয়ে যায়। এমনকি স্টিল বা আইভরিতে লাগিয়ে দিলে তা উজ্জ্বলতা হারায়। প্লাইনি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরো জানিয়েছিলেন, এ রক্তে বসে মৌমাছি মারা যায়। এমনকি আয়নার পেছনে এই রক্ত লাগিয়ে দিয়ে আয়নার প্রতিফলন পর্যন্ত কমে আসে। এ সবই শতভাগ ভুল তথ্য।
২. আবারো সেই পরিবেশবিদের কথাই আসে। তিনি আরেকটি এমন তথ্য দেন যা কিনা রূপকথার গল্পের মতো শোনায়। একবার তিনি জানান, বজ্রপাতের সময় পিরিয়ডের রক্ত বাতাসে রাখলে ঝড় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
৩. উনিশ শো শতকের দিকে একটি সাধারণ ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। নারীরা বিশ্বাস করতেন, পিরিয়ড চলাকালীন কেউ মাখন বানালে সে মাখন জমাট বাঁধবে না। উরু শুকিয়ে যায়। ১৯১৯ সালে একজন বিজ্ঞানী পর্যন্ত দাবী করে বসেন, পিরিয়ডের রক্তে রয়েছে 'মেনোটক্সিন' নামের এক বিষয় যা অ্যালোকোহলকে ভিনেগারে পরিণত করে।
৪. এ ভুল বিশ্বাস ছড়িয়েছে উপকথা থেকে। পিরিয়ডকালীন কুকুর, হাঙর ও ভালুক থেকে দূরে থাকতে হয়। কুকুর এ রক্তের সংস্পর্শে আসলে পাগলাটে হয়ে ওঠে। সাগরে নামলে হাঙর আক্রমণ করে। এ ছাড়া ভালুকের হাত থেকেও বাঁচার উপায় নেই।
৫. একটা তথ্য অনেকেই বিশ্বাস করেন। পিরিয়ড চলছে এমন কোনো নারীর সঙ্গে অন্য কোনো নারী বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে থাকলে, সুস্থ নারীরও সঙ্গে সঙ্গে পিরিয়ড শুরু হবে।
৬. ধরুন স্বামী ঘরে একগুচ্ছ ফুল আনলেন। যদি স্ত্রীর পিরিয়ড হয়ে থাকে তবে সেই ফুল মরে যাবে। যদি ফুলের কলি আনেন, তবে তা ফুটবে না।
এখানে দেখুন বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
মালায়ি : নারীর পিরিয়ডে মানুষের দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। নারীদের এ সময় রান্না করলে খাবারে লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়। পিরিয়ড চলাকালীন কোনো পুরুষ যদি ওই নারীর পেছন দিক দিয়ে হেঁটে যান, তবে ওই পুরুষের দাঁত ভেঙে যেতে পারে।
নেপাল : দেশটির কিছু অংশে এ ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, পিরিয়ড চলাকালীন কোনো নারীর অন্য কারো বাসায় যাওয়া উচিত নয়। তাদের সংস্পর্শে যেকোনো পশু বা মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এমনকি যার বাড়িতে ওই নারী বেড়াতে যাবেন, তিনি উধাও হয়েও যেতে পারেন।
রুয়ান্ডা : পিরিয়ডের সময় সেক্স করলে, সঙ্গীর মৃত্যু ঘটতে পারে। আবার বিপরীতমুখী ধারণাও রয়েছে। এও বলা হয়, যদি এ সময় সেক্স করা যায় তবে নারীর ব্যথা দূর হয়ে যায়।
বুরুন্ডি : এ রক্তে পরিবারের সবার মৃত্যু ঘটতে পারে। এ দেশ বিশ্বাস করা হয়, পিরিয়ড চলাকালীন বাড়ির কোনো সদস্যের কাছাকাছি গোসল করলে সর্বনাশ ঘটে যেতে পারে।
ভারত : পিরিয়ড জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে বলে বিশ্বাস করা হয় ভারতের বহু অঞ্চলে। তা ছাড়া এতে খাবার দূষিত হয় বলে ধারণা করেন অনেকে।
উগান্ডা : সে দেশে পিরিয়ড চলার সময় নারীদের গরুর দুধ খেতে মানা। গৃহপালিত সব পশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি। এসব ধারণার কারণে আফ্রিকার প্রতি দশ জনের একজন মেয়ে এ সময়টাতে স্কুলে যান না। সূত্র : টেলিগ্রাফ
No comments:
Post a Comment