Thursday, April 28, 2016

কোনো নারীর সৌন্দর্যের কথা কি অপর পুরুষের কাছে বলা উচিত?

অনলাইন ডেস্ক:

কোনো শরিয়ত সম্মত কারণ বা প্রয়োজন ছাড়া পুরুষ লোকদের নিকট কোনো মেয়ে বা নারীর (স্ত্রী, ভাবি এবং কন্যা)র শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দেয়া নিষেধ। তবে বিয়ে-শাদি বা এ জাতীয় কোনো প্রয়োজনে শারীরিক গঠন-প্রকৃতির বর্ণনা দেয়া জায়েজ।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো নারী যেন তার অনাবৃত শরীর অন্য কোনো নারীর অনাবৃত শরীরের সাথে না লাগায় এবং সে যেন তার (অপর নারীর)



শারীরিক সৌন্দর্য নিজের স্বামীর নিকট এমনভাবে বর্ণনা না করে, যেন সে তাকে সচক্ষে দেখছে।’ [বুখারি ও মুসলিম]

হাদিসে পরপুরুষের সামনে কোনো নারীর সৌন্দর্য-রূপ-লাবণ্য ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো স্ত্রী যেন তার স্বামীর কাছে সেই আলোচনা না করে। কারণ হতে পারে ওই স্বামীর অন্তরে রোগ (অন্যের প্রতি অবৈধ আসক্তি) থাকলে তার হয়তো নিজের স্ত্রীকে আর ভালো লাগবে না। ধীরে ধীরে ওই নারীকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠবে। তাই স্বামীর কাছে অন্য মেয়ের রূপ-লাবণ্যের কথা বর্ণনা করা মানে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা।

অপরদিকে কোনো পুরুষও তার স্ত্রী, ভাবি অথবা কন্যার সৌন্দর্য-রূপ লাবণ্যের কথা অন্য কোনো পুরুনের নিকট বর্ণনা করা ঠিক নয়। এতে করে সেই পুরুষের ভেতর একটি কামনা তৈরি হতে পারে সেই নারীর প্রতি। আর এতে করে পুরুষ লোকটি গুনাহগার হবেন। সুতরাং এমন অবস্থায় করণীয় হবে উত্তর এড়িয়ে যাওয়া। অথবা কোনো কৌশল অবলম্ভন কারা।

রাসুল (সা.) কি রসিকতা করা পছন্দ করতেন?

অনলাইন ডেস্ক:

মানবজীবনে আনন্দের অংশ হিসেবে বিনোদন, গল্প, চুটকি, কৌতুক, রসিকতা অনস্বীকার্য। কমবেশি প্রত্যেকেই রসগল্প করে থাকেন। তাই রসগল্পে শুধুমাত্র আত্মীয়-স্বজনের জন্য নয়, তা হতে পারে সবার সঙ্গে। ইসলামেও রসগল্প, কথ্যবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সীমার মধ্যে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাপ বা বিশৃঙ্খলার কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

ছোট-বড় সবার মধ্যেই রসিকতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ছোটদের রসিকতা যেন বড়দের সঙ্গে আদবের গণ্ডি অতিক্রম না করে। আর বড়দের রসিকতায় যেন ছোটদের প্রতি আদর-স্নেহের আবহ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ জনৈক সাহাবির ঘটনা উল্লেখ করা যায়। একদিন রাসুল



(সা.) তাঁবুর ভেতর অবস্থানকালে জনৈক সাহাবি এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বললেন, কিন্তু তাঁবুটি ছিল বেশ ছোট। যে কারণে সাহাবি রসিকতা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পুরো শরীরটাই প্রবেশ করাব, না আংশিক?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘পুরোটাই।’ (আবু দাউদ)

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি এসে রাসুল (সা.) এর কাছে একটা বাহনজন্তু চাইলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাকে একটা উটনীর বাচ্চা দেব।’ লোকটি বলল,‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আরে উটেরা সব উটনীদেরই বাচ্চা নয় কি?’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

আমাদের রসিকতা অনেক সময় এতোটা লাগামহীন হয় যে হাসতে হাসতে কখনো মিথ্যা কথা বলি, কিংবা কাউকে আহত করি। এসবই কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা করো না এবং তার সঙ্গে পরিহাস করো না।’ অনেকে আবার শরীরে আঘাত করেও রসিকতা করেন। এমনটি রসিকতার নামে জুলুম। অহেতুক অন্যকে বিরক্ত করাও রসিকতা হতে পারে না। এমনটি করা কোনো সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খোসগল্প, রসিকতায় মিথ্যা ও অনৈসলামিক বিষয়াদি পরিহার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।-প্রিয়.কম
লেখক : ফয়জুল আল আমীন

Wednesday, April 27, 2016

সন্তান কখন কি কারনে বাবার মত চেহারা পায় আর কখন মায়ের মত জেনে নিন?

অনলাইন ডেস্ক:

ইসলাম ধর্মে শুকরের মাংস নিষিদ্ধ যে কারণে!!

অনলাইন ডেস্ক:

ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের অনেকের কাছেই প্রিয় শুকরের মাংস। কিন্তু মুসলমানরা এ মাংস খান না। অনেকেই এটা নিয়ে তিরস্কার করেন মুসলিমদের। কিন্তু শুকরের মাংস কেন হারাম করা হয়েছে সেটা জানলে সবাই বলবে এটা নিষিদ্ধ হওয়াই উচিত। আসুন জেনে নেই কেন শুকরের মাংস নিষিদ্ধ হলো ইসলামে।

কুরআনে নিষিদ্ধতা:

শুকরের মাংস খাওয়া নিষেধ অন্তত চারটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে ২:১৭৩, ৫:৩, ৬:১৪৫, এবং ১৬:১১৫।

সুরা বাকারায় বর্ণিত হয়েছে, ‘নিষিদ্ধ করা হলো তোমাদের জন্য (খাদ্য হিসেবে) মৃত জন্তুর মাংস, প্রবাহিত রক্ত, শুকরের মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়।’

শুকর মাংস মারাত্মক রোগের কারণঃ

অন্যান্য অমুসলিম ও নাস্তিকরা হয়তো উপযুক্ত কারণ ও বিজ্ঞানের যুক্তি প্রমাণে মেনে নিতে পারে- শুকরের মাংস ভক্ষণ কমপক্ষে সত্তরটি রোগের উদ্ভব ঘটাতে পারে। প্রথমত, আক্রান্ত হতে পারে বিভিন্ন প্রকার ক্রিমির দ্বারা। যেমন বৃত্তাকার ক্রিমি, ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত ক্রিমি এবং বক্র ক্রিমি। এর মধ্যে সবচাইতে ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক হলো ‘টাইনিয়া সোলিয়াম’।

সাধারণভাবে যেটাকে ফিতা ক্রিমি’ বলা হয়। এটা পেটের মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং অনেক লম্বা হয়। এর ডিম রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে এবং দেহের প্রায় সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ঢুকে পড়তে পারে, যদি এটা মস্তিস্কে ঢোকে, তাহলে কারণ ঘটাতে পারে স্মৃতি ভ্রষ্ট হয়ে যাবার। হৃদ-যন্ত্রের মধ্যে ঢুকলে বন্ধ করে দিতে পারে হৃদযন্ত্রক্রিয়া। চোখে ঢুকলে অন্ধত্বের কারণ হয়, কলিজায় ঢুকলে সেখানে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে অর্থাৎ এটা শরীরের যে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

এরপরও আছে আরো ভয়ঙ্কর ‘ত্রীচুরা টিচুরাসীস্থ।’ এ সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা হলো ভালো করে রান্না করলে এর ডিম্ব মারা যায়। এর ওপরে আমেরিকায় গবেষণা চালানো হয়েছে। ফলাফল, ভালো করে রান্না করার পরও প্রতি ২৪ জনের ২২ জন এই ‘ত্রীচুরাসীস্থ’ দ্বারা আক্রান্ত। প্রমাণ হলো সাধারণ রান্নায় এ ডিম্ব ধ্বংস হয় না।

এতে চর্বি উৎপাদনের উপাদান প্রচুরঃ

শুকরের মাংসে পেশী তৈরির উপাদান অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ। পক্ষান্তরে চর্বি উৎপাদনের উপাদান প্রচুর। এ জাতীয় চর্বি বেশিরভাগ রক্ত নালীতে জমা হয়, যা কারণ ঘটায় হাইপার টেনশান এবং হার্ট এটাকের। অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ৫০ ভাগ আমেরিকান হাইপার টেনশানের রুগী।

শুকর নোংরা ও পঙ্কিলতম প্রাণীঃ

এ প্রাণীটি বসবাস করতে সাচ্ছন্দ বোধ করে নিজেদের বিষ্ঠা, মানুষের মল ও ময়লাপূর্ণ জায়গায়। আল্লাহ তাআলা সমাজবদ্ধ সৃষ্টিকূলের ধাঙর, মেথর বা ময়লা পরিষ্কারক হিসাবেই বোধকরি এ প্রাণিটি সৃষ্টি করেছেন। আজ থেকে পঞ্চাশ কি ষাট বছর আগেও যখন সেনিটারি পায়খানা আবিষ্কৃত হয়নি তখন যে কোনো শহরের পায়খানার ধরণ ছিল, পেছন থেকে মেথর এসে তা ট্যাঙ্কি ভরে নিয়ে যেত এবং শহরের উপকণ্ঠে কোথাও ফেলতো। যা ছিল শুকরদের পরম আনন্দ নিবাস এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোই সব বিষ্ঠার রুপান্তর ঘটতো।

অনেকেই হয়তো এখন বিতর্কে নেমে পড়বেন উন্নত বিশ্বে এখন শুকরের পরিচ্ছন্ন খামার করা হয়েছে যেখানে ওগুলো লালিত পালিত হয়। তাদের এই অনেক উন্নত, স্বাস্থ্যকর খামারেও ওগুলো নোংরা। অত্যন্ত আনন্দের সাথেই ওরা ওদের নিজেদের ও সঙ্গিদের বিষ্ঠা নিয়ে ওদের চোখ নাক দিয়ে নাড়া চড়া করে আর উৎসবের খাদ্য হিসেবেই খায়।

নির্লজ্জ পশুঃ

ভু-পৃষ্ঠের ওপরে শুকর অশ্লীলতায় নির্লজ্জতম প্রাণী। একমাত্র পশু যেটা তার স্ত্রী-সঙ্গীর সাথে সংগম করার জন্য অন্যান্য পুরুষ-সঙ্গীদের ডেকে নেয়। আমেরিকার ও ইউরোপের অধিকাংস মানুষের প্রিয় খাদ্য শুকরের মাংস। খাদ্যভ্যাস আচরণে প্রকাশ পায়, বিজ্ঞানের এ সূত্রের জীবন্ত নমুনা ওরাই। ওদের প্রিয় সংস্কৃতি ডান্স পার্টিগুলোতে নেচে নেচে উত্তেজনায় উন্মত্ত হয় তখন একে অপরের সাথে বউ বদল করে। অনেকেই আবার জীবন্ত নীল ছবির স্বাদ দিতে জন্য স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে বন্ধু-বান্ধব ডেকে নেয়। এসব প্রমাণ করে শুকরের মাংস মানুষকে নির্লজ্জতার দিকে ধাবিত করে।

Monday, April 25, 2016

যেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দাড়ি মোবারক

অনলাইন ডেস্ক:

হাদিস শরীফে দাড়ি সংক্রান্ত ছয়টি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। সবগুলো শব্দই দাড়ি বড় করার প্রতিনিধিত্ব করে। দাড়ির ক্ষেত্রে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমের নিজের আমল কী ছিলো তাও আমরা বিশুদ্ধ সূত্রে জানতে পারি।

হযরত জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন: “রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাড়ি মুবারক ঘন ছিল।” হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাখবারা ও হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত রাযি. এর কথোপকথন দ্বারাও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি দীর্ঘ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। (বুখারী ১/১০৩,১০৫)

হযরত আব্দুল্লাহ রা. হযরত খাব্বাব রা.-কে প্রশ্ন করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর ও আসরের নামাজে কেরাত পড়তেন কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, তিনি আসরের নামাজে “কেরাত পড়তেন।” হযরত আব্দুল্লাহ রাযি.-এর প্রশ্ন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাজে উচ্চস্বরে কিরাত পড়তেন না। তাহলে তাঁর কেরাত পড়ার বিষয়টি কীভাবে বোধগম্য হতো? হযরত খাব্বাব রাযি. জবাবে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি মুবারক নড়া-চড়ার দ্বারা বুঝতাম যে, তিনি কেরাত পড়ছেন। (আবু দাউদ, বজলুল মাজহুদ ২/৪৪)

একথা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, দাড়ি যথেষ্ঠ পরিমাণ লম্বা হলেই তা কেরাত পড়ার সাময় নড়া-চড়া করে। ছোট দাড়ি কেরাত পড়ার সময় নড়া-চড়া করার প্রশ্নই ওঠে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু-গোসলের সময় দাড়ি খিলাল করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এর দ্বারাও বুঝা যায় যে, তাঁর দাড়ি মুবারক বড় ছিল। কেননা ছোট দাড়িতে খিলাল সম্ভব নয়। আর তার প্রয়োজনও নেই। কেননা তাতে এমনিতেই পানি পৌঁছে যায়।

সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলগুলো প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন এবং সুন্নাতের উপর যথাযথভাবে আমল করতেন। তাদের আমল থেকেও দাড়ি দীর্ঘ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইমাম বুখারী রহ. সুন্নাতের উপর নিজেকে কুরবানকারী প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এর আমলকে এ ব্যাপারে শরীআতের মাপকাঠি হিসেবে পেশ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর আমলটি পেশ করে ইমাম বুখারী বলেন: ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. হজ্জ বা উমরার শেষে দাড়ির এক মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ ছেঁটে ফেলতেন’। (বুখারী: ২/ ৮৭৫)

শরীয়তের আরো অন্যান্য নির্ভরযোগ্য দলিলের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম লিখেছেন: “পুরুষের জন্য এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কোনো শরয়ী ওজর ব্যতিরেকে দাড়ি মু-ন করা হারাম। এ প্রকার কাজে লিপ্ত ব্যক্তি ফাসেক। দাড়ি ছেঁটে এক মুষ্টির কম করে রাখা ‘মাকরূহে তাহরীমী’। এরূপ কাজে অভ্যস্ত হওয়া ফিস্ক। এটি উম্মতের সর্বজন স্বীকৃত একটি মাসআলা।” (দাড়ি ও আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নাত: ৩১)

পরিণত বয়সে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্যের প্রতীক। নারীদের মাথার চুল মু-ন যেমন সৌন্দর্যহানি ঘটায়, ঠিক তেমনি দাড়ি মু-নও পুরুষের সৌন্দর্য বিনষ্ট করে। দাড়ি মুণ্ডন করা একটি নিকৃষ্ট কাজ। এটি আল্লাহ প্রদত্ত অপরূপ সৌন্দর্যের বিকৃতিকরণের নামান্তর।

ইসলামে জাদুর পরিচয় ও তার বিধান

অনলাইন ডেস্ক:

জাদু এক অদ্ভুত কর্মকাণ্ড। যা মানুষের বিবেককে গোলক ধাঁধায় ফেলে দেয়। সাধারণত মানুষ জাদুর মাধ্যমে আশ্চর্য রকমের কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলা পূববর্তী যুগে যখন মানুষের হিদায়াতের জন্য আসমানি গ্রন্থ নাজিল করেন, তখন তাওরাত ও ইঞ্জিলের অনুসারীরা তা গ্রহণ না করে জাদুবিদ্যার প্রতি ঝুঁকে পড়ে। যার ধারাবাহিকতা তখন থেকে শুরু কুরআন নাজিলের সময়সহ এখনো পর্যন্ত রয়েছে। সংক্ষেপে জাদুর পরিচয় এবং এর বিধান তুলে ধরা হলো-

জাদুর পরিচয়-
>> গোপন অদৃশ্য উপকরণকে কাজে লাগিয়ে অভিনব কারিশমা দেখানোকে জাদু বলে। জাদুবিদ্যা অর্জনের জন্য অদৃশ্য উপকরণ বলতে গ্রহ-নক্ষত্র, জিন-শয়তানের সহায়তা লাভ করতে কুফরি, শিরকি ও পাপাচারকে অবলম্বন করা। যার মাধ্যমে অদৃশ্যভাবে মানুষের ক্ষতিসাধন করা হয়।
>> বিশেষ ধরনের সাধনা ও যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমেও এ বিদ্যা অর্জিত হয়। এগুলো মুশরিক ও জাহেলি যুগের লোকদের মাঝে প্রাচীনকাল থেকেই এর বহুল প্রচলন ছিল। যার রেশ এখনো রয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এগুলো হারাম ও চরম অবৈধ এবং গোনাহের কাজ।

জাদুবিদ্যার বিধান
হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের শরিয়তে জাদু নিঃশর্তভাবে কুফরি তথা নিষিদ্ধ ছিল। আর দ্বীনে ইসলামিতে জাদুবিদ্যার সামান্য বিশ্লেষণ রয়েছে।
>> জাদুবিদ্যা অর্জনকে কেউ কেউ হারাম আবার কেউ কেউ মাকরূহ এবং অনেকে মুবাহ বলে মনে করেন। জাদু করার নিয়তে শিখলে তা হারাম বা অবৈধ। তবে কেউ যদি আত্মরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য জাদুবিদ্যা অর্জন করে তবে তা মুবাহ বা মাকরূহ।

>> তবে মূল কথা হলো জাদু করাকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা কুফরি। কেননা কুরআন এবং হাদিসে জাদুকে যথাক্রমে অনিষ্টকর বিদ্যা এবং ধ্বংসাত্মক কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

>> জাদুবিদ্যাকে হালাল মনে করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কেননা গণক, জ্যোতিষ বা জাদুবিদ্যা পারদর্শীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর হুশিয়ারি ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি গণক, জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চায়, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না (নাউজু বিল্লাহ)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘জ্যোতিষী হলো গণক; আর গণক হলো জাদুকর।

পরিশেষে...
জাদুবিদ্যা অর্জন করা, জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যাওয়া এবং তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করা- এ সবই ঈমানের পরিপন্থী কাজ। সুতরাং জাদুবিদ্যা অর্জন থেকে মুমিনের বিরত থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জাদুবিদ্যার ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করুন। কুরআন-হাদিসের আমলি জিন্দেগি যাপন করে খাঁটি মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হারূত-মারূত কি ফেরেশতা না মানুষ?

অনলাইন ডেস্ক:

হারূত এবং মারূত কে ছিলেন। বিভিন্ন ইসলামি আলোচনায় এদের নাম চলে আসে। কুরআনের এদের নাম এসেছে। কি তাদের পরিচয়? তারা কি মানুষ না ফেরেশতা? তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে দুটি অভিমত পাওয়া যায়। যা তুলে ধরা হলো-

তাদের পরিচয় সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়-
১. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, হারূত ও মারূত উভয়ে দুজন জাদুকর ছিল। মানুষকে জাদু বিদ্যা শিক্ষা দিতো। এ অবস্থায় প্রশ্ন চলে আসে যে, কুরআনে তাদের দুজন ফেরেশতা বলে সম্বোধন করা হয়। এর উত্তরে বলা হয়- যেহেতু উভয় ব্যক্তিই পূর্বে সৎ ছিল। তাই পূর্বের সততার বিচারে তাদের ফেরেশতা বা মালাকাইন বলা হয়েছে।

২. হারূত ও মারূত উভয়েই মানুষ নয় বরং ফেরেশতা ছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানব জাতির পরীক্ষা স্বরূপ জাদু বিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য নাজিল করা হয়। এ মতটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ।

মানবজাতির পরীক্ষাস্বরূপ তাদের আগমন
আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুল প্রেরণ করে তাঁদেরকে বিশেষ মুজিযা দান করেছেন। ইয়াহুদি, খ্রিস্টান ও অবিশ্বাসীরা নবি-রাসুলদের মুজিযাকে অসম্মান করে জাদু এবং তাঁদেরকে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করতো। কেননা সে যুগে জাদুবিদ্যার প্রচলন অনেক বেশি। তাই আল্লাহ তাআলা জাদু এবং মুজিযার মধ্যে পার্থক্য করার লক্ষ্যে মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ ফেরেশতাদ্বয়কে পাঠিয়েছিলেন।

সুতরাং কুরআনের আয়াত এবং তাফসিরে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতামত হলো হারূত ও মারূত আল্লাহর ফেরেশতা ছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিতো। যা বাবেল শহরে হারূত ও মারূতের ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১০২)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবি-রাসুলদের মুজিযায় বিশ্বাস করে, জাদুবিদ্যা, গণক ও জ্যোতিষীদের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহ মুসলিম নারীদের মর্যাদা কত উপরে রেখেছেন : হ্যাপি

অনলাইন ডেস্ক:

সমাজের তথাকথিত স্মার্ট বোনেরা,পুরুষের সমান অধিকার পাওয়ার জন্য নয় বরং সস্তা হওয়ার অধিকারের জন্য চিল্লাচিল্লি করে যাচ্ছে।
কিসের সমান অধিকার? পুরুষ আর নারীর? অদ্ভুত! আমার বোনেদের কি জানা নেই যে,আল্লাহ তায়ালা মুসলিম নারীদের মর্যাদা কত উপরে রেখেছেন!
বোনেরা যেসব কারণে বিশেষ করে গলা ফাটাচ্ছে তা হল- ছেলেরা সমাজে যেভাবে চলাফেরা করে সেভাবে চলার জন্য,কর্ম সংস্থানগুলোতে কাজের সমান সুযোগের জন্য, প্রতিটি সেক্টরে সমানভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য,নারীদের শক্ত অবস্থানের জন্য (যাতে করে নারীদের অবলা ভাবা না হয়),ইত্যাদি।

এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল করুন, আপনি এইসব অধিকার পেয়ে যেসব কাজে ব্যবহার করতে চান বা করছেন এই অধিকার দ্বারা আদৌ সম্মান পাচ্ছেন কি?
সবকিছুই করেন,কেউ তো মানা করেনি। তবে ইসলাম মেনে করুন। তাহলে আসল সম্মান পাবেন দুনিয়াতে ও আখিরাতে।আর এখন যেগুলোর পেছনে ছুটছেন,এসব নকল।নকলেই হুমড়ি খেয়ে পড়লেন?

পুরুষের মত হতে চাওয়াটাই একটা মূর্খতার আলামত।এক এবং একমাত্র সত্য ধর্ম,ইসলাম ধর্মে নারীরা সুরক্ষিত মুক্তার মত যেভাবে ঝিনুকের ভেতর থাকে।
আসলে অামার আল্লাহ নারীদের এতটাই সম্মান দিয়েছে যে,কোনকিছু দিয়েও এটা বোঝানোর উর্ধ্বে।আল্লাহ কোরআনে নারীদের বলেছেন,আমরা যেন জাহেলি যুগের মত না চলি।আমাদের সমাজের নারীরা জাহেলি যুগের মতই চলাফেরা,কাজকর্ম আর সৌন্দর্য প্রদর্শন করছি।

মেয়েরা তো প্রয়োজন ছাড়া বের-ই হবেনা।অথচ বাইরে বেশিরভাগ মেয়েরাই বেহুদা কাজে ব্যস্ত!আর পর্দা? অনুবীক্ষণ যন্ত্র লাগবে পর্দাশীল বোনদের খুজে বের করতে।
সমান অধিকারের জন্য চিল্লাচ্ছেন ভাল কথা তবে সুরটা একটু বদলানো দরকার।

এমন অধিকারের জন্যে চিল্লানো দরকার যে, সব কর্মসংস্থানে মেয়েরা পরিপূর্ণ পর্দার সাথে কাজ করতে পারবে।অনেক মেয়ে আছে যার মাহরাম নেই,রিযিকের সন্ধানে তাকেই বের হতে হবে,সে যেন পর্দার সাথে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।
এমন অধিকারে জন্য চিল্লানো দরকার যে,যার মাধ্যমে এটাও নিশ্চিত হবে যে দেশের কোন স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটিতে কারও সাহস হবে না কোন পর্দাশীল বোনকে এটা বলার যে,নিকাব করা যাবে না/বোরখা পড়ে ক্লাস করা যাবে না।আর বললে খবর আছে।

এমন অধিকারের জন্য চিল্লানো দরকার যে, সব জায়গাতে যেন পর্দাশীল বোনদের আলাদা ব্যবস্থা থাকে যাতে করে কোন পর্দাশীল বোনকে হেনস্থা না হতে হয়। সমাজে/দেশে থাকতে হলে দেশের তৈরি অনেক রুলস থাকে যেটা বাধ্যতামূলক সেক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত করা করা যে,পর্দাশীল বোনদের যেন গায়রে মাহরামের সাথে কোনভাবেও মুখোমুখি হতে না হয়।
এমন সস্তা অধিকারের জন্য শুধু চিল্লায়েন না,যেটা দ্বারা শুধু ছেলেদের পোষাক পড়ে চলাফেরা করার অধিকার পাওয়া যায়।

-হ্যাপীর ফেসবুক থেকে

Sunday, April 24, 2016

কাউকে বিকৃত নামে ডাকলে কি শাস্তি?

অনলাইন ডেস্ক:

আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে নিন্দা না করে। হতে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। নারীরা যেন অন্য কোন নারীকে ঠাট্টা না করে। হতে পারে তারা তার চেয়ে উত্তম। তোমরা পরস্পরের পিছনে বদনাম কর না এবং তোমরা পরস্পরকে মন্দ লকবে ডেকো না।

একজন মানুষের নাম শুধুমাত্র তার পরিচয় বহন করে না পাশাপাশি নামের মধ্যদিয়ে তার পরিবার, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ফুটে উঠে। যে কারনে নাম সুন্দর ও সুন্দর অর্থবহ হওয়া জরুরী। প্রত্যেক ব্যাক্তিই তার নামকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসে যে কারনে সে কখনই চায় না তার কেও বিকৃত বা ব্যাঙ্গাত্বক ভাবে ডাকুক। নাম বিকৃত করার ফলে অধিকাংশ সময় নামের আসল অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় এবং নামের অর্থ বিকৃত হয়ে অনেক সময় বিপরীত অর্থ ধারণ করে। শব্দ বা উচ্চারণের বিকৃতি নামের শ্রুতিমধুরতা কে বিনষ্ট করে করে। নামের মালিককে সবার কাছে হাস্যকর ভাবে উপস্থাপন করা, বিকৃতি করা , হাসি ঠাট্টা করার জন্য উপনাম দেয়া ব্যাক্তির হক নষ্ট করার নামন্তর।মানুষকে অপমান করা বা ঠাট্টা



মসকরা করার জন্য তার নাম বিকৃত করা কবীরা গুনাহ এবং তা গীবতের শামিল। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মাখলুক মানুষের নামকে ভেংচিয়ে, বিদ্রুপাত্বক ভাবে, অথবা নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে ডাকা বড় ধরনের গুনাহের কাজ।

আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে নিন্দা না করে। হতে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। নারীরা যেন অন্য কোন নারীকে ঠাট্টা না করে। হতে পারে তারা তার চেয়ে উত্তম। তোমরা পরস্পরের পিছনে বদনাম কর না এবং তোমরা পরস্পরকে মন্দ লকবে ডেকো না। ঈমানের পরে ফাসেকী কতই না মন্দ নাম! যারা এসব থেকে তওবা করে না তারাই হল যালিম’ বান্দার হক নষ্ট করার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেছেন। এটা এমন একটা অপরাধ যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, যা ক্ষমা পেতে হলে বান্দার কাছেই উপস্থিত হয়ে ক্ষমা নিতে হবে। হাদিসে রাসুল সা. এই ধরনের কাজকে তিরস্কৃত করেছেন এবং এ কাজকে মারাত্মক গুনাহর কাজ বলেছেন ।

কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, সুন্দরতম নাম সমূহের অধিকারী আল্লাহ, অতএব তোমরা সেসব নাম ধরে তাঁকে ডাকো। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করো, তাদের কৃত কর্মের ফল তাদেরকে দেয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কোনো মানুষকে বিদ্রুপাত্মক নামে ডাকতে নিষেধ করেছেন এবং অন্যত্র প্রত্যেককে তাদের পিতার নামানুসারে ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষকে ভিন্ননামে ডাকা, কটূক্তি করার মানে হলো তার কাছে ঋণী থাকা। অনেক সময় বন্ধু-বান্ধব বা কাছের আত্বীয়রা মজা করতে যেয়ে একে অপরকে উপনাম অথবা বিকৃত নামে ডেকে থাকে। মজা করতে যেয়েও এই ধরনের উপনাম অথবা বিকৃত নামে কাউকে ডাকা উচিত নয়। কারন মজা করার জন্য হলেও কোনো মানুষের অবচেতন মন এটাকে ভাল জিনিস হিসেবে গ্রহণ করে না। এই বিকৃত মজা নিতে যেয়ে কাউকে উপনাম অথবা বিকৃত নামে ডাকলে আসলে তা নিজের ব্যক্তিত্বের আকর্ষনটাই নষ্ট করে। কাজেই সাময়িক আনন্দ লাভের জন্য, একটু হাসি-মশকরার জন্য অন্যায়ভাবে কাউকে ডেকে গুনাহের পাল্লা ভারি করবোনা।

মাওলানা সাকিব মুস্তানসির

প্রেম নিয়ে যা বললেন ডা. জাকির নায়েক

ইসলাম ডেস্ক :

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বে জবাব দিয়ে থাকেন পিসটিভির ডা. জাকির নায়েক। এবার এক নারী তাকে প্রশ্ন করেন, ‘ধরুন, কোনো মেয়ে শুরুতে হিজাব পরত না। ছেলেদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করত। পরে একে অপরের প্রেমে পড়ে গেল। এক সময় ওই মেয়েটি হিজাব পরা শুরু করল। সে বুঝতে পারল যে, এটি (প্রেম করা) ঠিক না। আপনি তাকে কী উপদেশ দেবেন?’জবাবে ডা. জাকির নায়েক বলেন, প্রথমে দেখতে হবে কতটা


প্রেমে পড়েছে। তাদের প্রেম কতটা গভীরতায় পৌঁছেছে। সবকিছু জেনে তাকে উপদেশ দেব। যদি অল্প মুগ্ধতা হয়, বাইরে একটু-আধটু ঘুরাফেরা বা কথা বলেছে মাত্র- তাহলে তাকে বুঝানো সহজ হবে। তবে তাদের সম্পর্কটা যদি গভীরে পৌঁছে যায় তখন কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন।

পবিত্র আল কোরআনে বলা হয়েছে- ‘ব্যাভিচারী ছেলের জন্য ব্যাভিচারী মেয়ে আর ব্যাভিচারী মেয়ের জন্য ব্যাভিচারী ছেলে রয়েছে’। সে হিসেবে তাদের প্রেম গভীরতায় পৌঁছার পর তারা যদি ভুল বুঝতে পারে এবং কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক চলার অঙ্গীকার করে তাহলে বলব, ‘তোমরা বিয়ে করে ফেল।’

কারণ তারা দুজনই গুনাহ করেছে। এখন অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছে। তারা বিয়ে করে নিলে কোরআনের আয়াত অনুযায়ী কাজ হবে। আর গভীরতা তৈরি না হলে বলব, ‘এ থেকে দূরে থাক। ধর্মের প্রতি মনযোগী হও। বেশি বেশি কোরআন পড়, বিভিন্ন ইসলামী লেকচার শুনে তা আমল কর।’

ক’দিন পরপরই ভূমিকম্পের কারণ সম্পর্কে যা বলছে ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক:

ক’দিন পরপরই মৃদু কম্পনে সারাদেশ কম্পিত হয়ে উঠছে। এইতো গত ১৩ এপ্রিল বুধবার সন্ধা ৭.৫৬ মিনিটের দিকেও ঢাকাসহ সারাদেশেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ১ এবং উৎপত্তি স্থল ভারতে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে সারাদেশের মানুষ।

ভূকম্পন অনুভূত হবার পর লোকজন দিগ-বিদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করে। রাজধানীবাসীর বেশিরভাগই বাসার ছাদে কিংবা রাস্তায় নেমে যায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে। এতে প্রায় ১শ' জনের মতো লোক আহত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন হেলে গিয়েছে। প্রথমে মনে করেছিলাম আমি নিজেই মনে হয় পা নাড়াচ্ছি। কিন্তু ক্রমশ কম্পন এতো বেশি হতে লাগলো যে, আশপাশে মানুষ চিৎকার করা শুরু করেছে।

ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো বড় একটা কম্পন আসার আগে সতর্ককারী কম্পন। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সতর্ক করেন যাতে করে তারা অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসে। কেন এত ভূমিকম্প সংগঠিত হয়? এবং এ থেকে পরিত্রাণের উপায়- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের, তাঁর পরিবারের উপর, তাঁর সাহাবাদের উপর এবং তাদের উপর যারা তাদের অনুসরণ করেন।

মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, তাঁর ইচ্ছা এবং তিনি যা কিছু প্রেরণ করবেন সে সকল বিষয়ে তিনিই সবকিছু জানেন এবং তিনি সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সর্বাধিক অবহিত তাঁর আইন-কানুন ও আদেশ সম্পর্কে। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের নিদর্শন সৃষ্টি করেন এবং বান্দার উপর প্রেরণ করেন যাতে করে তারা মহান আল্লাহ কর্তৃক তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন ও ভীত হয়। বান্দারা মহান আল্লাহর সাথে যা শিরক করে (অর্থাৎ, ইবাদত করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে অংশিদারিত্ব করে) এবং তিনি যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি এই নিদর্শনসমূহ প্রেরণ করেন যাতে করে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারে, তাদের বোধোদয় হয় এবং তাদের রবের দিকেই একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করে।

মহান আল্লাহ বলেন : “(আসলে) আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই” (সূরা ইসরা : ৫৯) “অচিরেই আমি আমার (কুদরতের) নিদর্শনসমূহ দিগন্ত বলয়ে প্রদর্শন করবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও (তা আমি দেখিয়ে দিবো), যতোক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে



যায় যে, এই (কুরআনই মূলত) সত্য; একথা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার মালিক সবকিছু সম্পর্কে অবহিত?” (সূরা হা-মীম আস সিজদা : ৫৩) “বল : আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে) অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।” (সূরা আল আনআম : ৬৫)

আল-বুখারী তার সহীহ বর্ণনায় জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : যখন “তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে)” নাযিল হলো তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “আমি তোমার সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”, অথবা যখন, “অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম” নাজিল হলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : “আমি তোমার সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। (সহীহ আল বুখারী, ৫/১৯৩)

আবূল-শায়খ আল-ইস্পাহানি এই আয়াতের তাফসিরে বর্ণনা করেন, “বল : আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর, তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে)” যার ব্যাখ্যা হলো, তীব্র শব্দ, পাথর অথবা ঝড়ো হাওয়া; “অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম”, যার ব্যাখ্যা হলো, ভূমিকম্প এবং ভূমি ধসের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঢুকে যাওয়া। নিঃসন্দেহে বর্তমানে যে সকল ভূমিকম্পগুলো ঘটছে তা মহান আল্লাহর প্রেরিত সতর্ককারী নিদর্শনগুলোর একটি যা দিয়ে তিনি তাঁর বান্দাহদের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

এই ভূমিকম্প এবং অন্যান্য সকল দুর্যোগগুলো সংগঠিত হওয়ার ফলে অনেক ক্ষতি হচ্ছে, অনেকে মারা যাচ্ছে এবং আহত হচ্ছে; এই দুর্যোগগুলো আসার কারণ হচ্ছে, শিরকী কার্যকলাপ (ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে মহান আল্লাহর অংশীদার বানানো) এবং মানুষের পাপ (মহান আল্লাহ যে কাজগুলো করতে নিষেধ করেছেন সে কাজগুলো করার কারণে)। এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেন : “(হে মানুষ) যে বিপদ-আপদই তোমাদের উপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই, এবং (তা সত্ত্বেও) আল্লাহ তাআলা তোমাদের অনেক (অপরাধ এমনিই) মাফ করে দেন।” (সূরা আশ শূরা : ৩০)

“যে কল্যাণই তুমি লাভ কর (না কেন, মনে রেখো), তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, আর যেটুকু অকল্যাণ তোমার উপর আসে তা আসে তোমার নিজের থেকে”। (সূরা আন নিসা : ৭৯) মহান আল্লাহ অতীত জাতির উপর প্রেরিত আজাব সম্পর্কে বলেন : “অতপর এদের সবাইকে আমি (তাদের) নিজ নিজ গুণাহের কারণে পাকড়াও করেছি, এদের কারো উপর প্রচ- ঝড় পাঠিয়েছি (প্রচ- পাথরের বৃষ্টি) {যেভাবে লূত জাতির উপর প্রেরণ করা হয়েছিল}, কাউকে মহাগর্জন এসে আঘাত হেনেছে {যেভাবে শুআইব (আ.)-এর জাতির উপর আঘাত হেনেছিল}, কাউকে আমি জমিনের নিচে গেড়ে দিয়েছি {যেভাবে কারুন জাতিদের উপর এসেছিল}, আবার কাউকে আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি {নূহ জাতী ও ফেরাউন ও তার লোকদেরকে যেভাবে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল}, (মূলত) আল্লাহ তাআলা এমন ছিলেন না যে তিনি এদের উপর জুলুম করেছেন, জুলুম তো বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর করেছে”। (সূরা আল আনকাবূত : ৪০)

এখন মুসলমানদের এবং অন্যান্যদের খুবই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা উচিত, আল্লাহর কর্তৃক নির্দিষ্ট একমাত্র দ্বীন ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহ তাআলা যেসব শিরকী কার্যকলাপ ও পাপ কাজ করতে নিষেধ করেছেন যেমন: (নামাজ পরিত্যাগ না করা, জাকাত আদায় করা থেকে বিরত না হওয়া, সুদ-ঘুষ না খাওয়া, মদ পান না করা, ব্যভিচার না করা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা না করা, গান ও বাদ্যযন্ত্র না শোনা, হারাম কাজসমূহ ভঙ্গ না করা প্রভৃতি) তা থেকে বিরত থাকা। এটা হতে আসা করা যায়, তারা এই দুনিয়া ও পরবর্তীতে কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তাদের আজাব থেকে নিরাপদে রাখবেন এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণ করবেন।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: “অথচ যদি সেই জনপদের মানুষগুলো (আল্লাহ তাআর উপর) ঈমান আনতো এবং (আল্লাহ তাআলাকে) ভয় করতো, তাহলে আমি তাদের উপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু (তা না করে) তারা (আমার নবীকেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, সুতরাং তাদের কর্মকা-ের জন্য আমি তাদের ভীষণভাবে পাকড়াও করলাম”। (সূরা আল আ’রাফ : ৯৬) এবং আল্লাহ আহলে কিতাবধারীদের সম্পর্কে বলেন: “যদি তারা তাওরাত ও ইনজিল (তথা তার বিধান) প্রতিষ্ঠা করতো, আর যা তাদের উপর তাদের মালিকের কাছ থেকে এখন নাজিল করা হচ্ছে (কুরআন) তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো, তাহলে তারা অবশ্যই রিজিক পেতো তাদের মাথার উপরের (আসমান) থেকে ও তাদের পায়ের নীচের (জমিন) থেকে”। (সূরা আল মায়িদা : ৬৬)

এবং আল্লাহ আরো বলেন : “(এ) লোকালয়ের মানুষগুলো কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে (তারা মনে করে নিয়েছে), আমার আজাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে! লেখক : মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

Tuesday, April 19, 2016

পালিয়ে বিয়ে করা, ইসলাম ধর্মে কি বলে?

অনলাইন ডেস্ক:

বিয়ে প্রতিটি মুসলমানদের জন্য ফরজ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও’। [সূরা নূর, ২৪:৩২]

আধুনিক যুগে অনেক তরুণ-তরুণীকেই দেখা যায়, বাবা-মাকে না জানিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে থাকে। তরুণ-তরুণীদের এ ধরনের বিয়ে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কি বৈধ? অনেকেই তা জানে না।

তরুণ-তরুণীদের এরূপ লুকিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে মহানবী (সা.) স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘যে নারী তার অভিভাবকের (বাবা-মা কিংবা বড়ভাই এক কথায় অভিভাবক) অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে

বাতিল’। [হাদিসটি তিরমিযি (১০২১) ও অন্যান্য গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত এবং হাদিসটি সহীহ]

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, বাবা-মা কিংবা অভিভাবকদের বিনা অনুমতিতে পালিয়ে বিয়ে করা ইসলাম সমর্থন করে না। নবীজী (সা.) এই রূপ বিয়েকে সরাসরি বাতিল বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।

সুতরাং যে কাজ আল্লাহর রাসুল করতে নিষেধ করেছেন সেই কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, ‘যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল’। (তিরমিযি)

নারীকে তার উপযুক্ত স্বামী গ্রহণ করার অর্থ তাকে মুক্ত স্বাধীন ছেড়ে দেয়া নয় যে, যাকে ইচ্ছা সে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে, যার বিয়ের খারাপ প্রভাব পড়ে তার আত্মীয় ও পরিবারের ওপর।

নারী অভিভাবকের সাথে সম্পৃক্ত, অভিভাবক তার ইচ্ছাকে দেখবে এবং তাকে সঠিক পথ বাতলাবে, তার বিবাহের দায়িত্ব নেবে, সে নিজে নিজের আকদ সম্পন্ন করবে না, যদি সে নিজের আকদ নিজে সম্পন্ন করে বাতিল বলে গণ্য হবে।

অন্য হাদীসে এসেছে- ‘অভিভাবক ব্যতীত নারীর কোনো বিয়ে নেই’।

এ দু’টি হাদীস ও এ জাতীয় অন্যান্য হাদীস প্রমাণ করে যে, অভিভাবক ব্যতীত নারীর বিয়ে বৈধ নয়।

নতুন বউকে দুলা ভাই কোলে করে ঘরে তোলা কি জায়েজ?

অনলাইন ডেস্ক:

বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক প্রকার কুসংস্কার চালু রয়েছে। যেগুলোর ইসলামে কোনো প্রকার ভিত্তি নেই। এমনকি কোরআন হাদীসের কোনো দলিল প্রমান নেই। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কোনো কাজ কখনো করেননি এবং তার উম্মতদের করতেও বলেননি। আমাদের দেশের অনেক এলকায় প্রচলিত অসংখ্য হারাম ও নাযায়েজ প্রথার মধ্যে একটি হলো যে, নতুন স্ত্রীকে বরের দুলাভাই কোলে করে ঘরে তুলতে হবে। সাধারণত বিয়ের

মধ্যে বাজনা বাজানো রং ছিটানো থেকে শুরু করে অনেক নাজায়েজ কাজই করে থাকি আমরা। তবে এর মধ্যে নতুর বউকে দুলাভাই কোলে করে ঘরে তোলাটা একটি মারাত্মক হারাম প্রথা। ইসলামী শরীয়াতে যেখানে দুলাভাইয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে তার শরীর স্পর্শ করা বা কোলে তুলে ঘরে তোলা আরো মারাত্মক অন্যায় ও পাপের কাজ। সুতরাং এমন কাজ ইসলামী শরীয়তে জায়েজ নেই।

ইসলামী শরীয়াতে এ ধরণের কু প্রথা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। তাছাড়া এরুপ হারাম কাজের কারণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন। আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে যে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন তাতে আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভ করা কঠিন। তাই আমাদেরকে এমন কু প্রথা থেকে দূরে থাকতে হবে। এবং আমাদের আশে পাশের কেউ যদি না জানার কারণে এমন কাজ করে থাকেন তাদেরকেও নিষেধ করতে হবে। কারণ এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

যখন আল্লাহর চেহারা দেখতে পারবে বান্দা : জাকির নায়েক

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন ‘পিসটিভি’র প্রশ্নোত্তর পর্বে ডা. জাকির নায়েক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন। এবার তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আল্লাহ সব জায়গায় উপস্থিত থাকলে তাকে দেখা যায় কি?’

উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন, পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে আল্লাহর কুওয়ত (শক্তি) বা তার ইলম (জ্ঞান) সব জায়গায় উপস্থিত রয়েছে।



তবে তিনি আরশে আজিমে (সপ্তম আকাশের ওপর বিশেষ স্থানে) অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, ‌‘আল্লাহ দুনিয়ার সব জায়গায় উপস্থিত’ এমন বক্তব্য ইসলাম বা মুসলমানদের না। এটি হিন্দুদের বক্তব্য। দুনিয়ার বুকে কোনো মানুষের পক্ষে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। এ বিষয়ের দৃষ্টান্ত রয়েছে পবিত্র কোরআনে। হজরত মুসা (আ.) যখন আল্লাহকে দেখতে চাইলেন, তিনি তাকে দেখতে পারেননি, কেবলমাত্র পাহাড় দেখেই বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অতএব বোঝা গেল, দুনিয়ার বুকে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনে বেহেশতে যাওয়ার পর বান্দা আল্লাহর চেহারা দেখতে পারবে।

হাদিসেও এ কথার উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে- ‘জান্নাতে তারা আল্লাহর চেহারা দেখবে।’

সূত্র : পিসটিভি

Saturday, April 16, 2016

অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ:

পত্রিকা আর টেলিভিশনের খরব মানেই এখন ভীতির বার্তা। প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতনসহ নানাবিধ অনাচার-অবক্ষয়ের খবরই এখন ‘আলোচিত নিউজ’। এ দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।

খবরের ছবি, শিরোনাম ও স্থান-কালেরই কেবল পরিবর্তন ঘটেছে; চরিত্র ও ধরনে কোনো পরিবর্তন নেই। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে সবই অপরাধের খবর।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের খবরে বলছে : নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এ ঘটনায় আমরা এখন বিপদসীমা অতিক্রম করে ফেলেছি বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেন। সারা দেশের নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয় এক হাজার ৯২ জন নারী ও শিশু। আর ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৬৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) মতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে চল্লিশের বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজন-রাকিব হত্যাকাণ্ডের মতো দ্রুত বিচার আইনে নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর মার্চ মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে মোট ধর্ষণের শিকার ১৬৯ জন নারী ও শিশু। এই তিন মাসে যৌন হয়রানির শিকার হন ৭০ জন। আর এসিড সহিংসতার শিকার হন ১১ জন নারী।

আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এ দুই মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হন ১০৫ জন নারী। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হন ২৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তিনজনকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেন দুজন। আর ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন ২০ জন ভিকটিমের বয়স সাত থেকে ১২ বছর। আইন ও সালিস কেন্দ্রের একই সময়ে শিশু নির্যাতন নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ধর্ষণের পর মৃত্যু হয়েছে দুটি শিশুর। শারীরিক নির্যাতনে একজন গৃহশ্রমিক শিশু ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৮টি শিশুকে। অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১১টি শিশুকে। এ সময়ে ১৩ নিখোঁজ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু (১৯) হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। (বাংলাদেশ প্রতিদিন : ৩-৪-২০১৬ ইং)

অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগোচ্ছে। শিক্ষার হার বাড়ছে। সার্বিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানও বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক অঙ্গনে অশান্তি এবং অস্থিরতাও বাড়ছে সমানতালে। শিক্ষার হার বাড়ছে, কমছে সততা। আপাত ভদ্রলোক বাড়ছে, কমছে নিখাদ ভালো মানুষ। জনসংখ্যা বাড়ছে, কমছে ‘মানুষ’। আইন কঠোর হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও বাড়ছে; কমছে না অপরাধপ্রবণতা। মানুষকে ‘মানুষ’ হিসেবে জ্ঞান করতে না পারলে স্বাভাবিক নিয়মেই হারিয়ে যায় মানবিক মূল্যবোধ। চলে যায় প্রেম, ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা। বিনষ্ট হয় শান্তি-শৃঙ্খলা। শুরু হয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি। বর্তমান বিশ্বে যা হরহামেশাই ঘটছে। মানবতা ও নৈতিকতার কোনো স্তরেই নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ও অহেতুক রক্তপাত সমর্থন করা হয় না। হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, প্রতিশোধ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, তারা মানবতাবর্জিত ও সভ্যতার শত্রু। শান্তি, সাম্য ও মানবিক ধর্ম ইসলাম মানুষের জান-মাল রক্ষা করার জন্য সব ধরনের জুলুম, অন্যায় ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করেছে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আজ এই পবিত্র দিনে (বিদায় হজের দিন), পবিত্র মাসে এবং পবিত্র (মক্কা) শহরে তোমাদের জন্য যেমন যুদ্ধবিগ্রহ ও অপকর্ম করা অবৈধ, তেমনিভাবে তোমাদের জান ও মাল বিনষ্ট করাও অবৈধ।’ (বুখারি : হা. ১৭৪১, মুসলিম : হা. ১৬৭৯)

কোথাও কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেখলে অন্যদের উচিত নির্যাতিত ব্যক্তির সাহায্যে এগিয়ে আসা। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কারো প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন (বিশ্বের) সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩২)

মানুষকে বলা হয় সামাজিক জীব। সৃষ্টিগতভাবে সামাজিকতার উপাদান মানুষের মধ্যে রয়েছে। সব বিষয়ে কাউকে নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পদে পদে মানুষকে পরনির্ভর ও পরমুখাপেক্ষী হতে হয়। তথাপি মানুষ সামাজিকতার উপাদানগুলো উপেক্ষা করে অসামাজিক হয়ে ওঠে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে, আদর্শিক লড়াইয়ে, পার্থিব দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হয়ে মানুষ সংঘাতে লিপ্ত হয়। ইসলাম কখনোই হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। পৃথিবীতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)

বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম। ইসলামে কখনোই অশ্লীলতা, পৈশাচিকতা ও আদিম পশুত্বকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। বরং মানবসভ্যতার ইতিহাসে অশ্লীলতা নির্মূলে ইসলাম সর্বাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অশ্লীল পোশাক, নৃত্য, জিনা-ব্যভিচার ও বল্গাহীন জীবনযাপন ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। প্রকৃত মুসলিম সমাজব্যবস্থায় কখনোই অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা স্থান পায়নি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২)

নারী-পুরুষের পারস্পরিক আকর্ষণ সহজাত হলেও সামাজিক বিপর্যয় রোধে এর বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণের তাগিদ কেউ অস্বীকার করে না। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন, বিশেষত ইসলাম ধর্মের নির্দেশনা মেনে নেওয়ার বিকল্প নেই। বিবাহবহির্ভূত অবাধ জীবনাচারের কোনো সুফল চীন, জাপান, কানাডা ও পশ্চিমারা পায়নি। সেসব দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়েশাদির ব্যবস্থা না করা হলে সমাজে তা নানা অপরাধ উসেক দিতে বাধ্য। সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে। এর বহু কল্যাণের পাশাপাশি কিছু অকল্যাণকর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতার কারণে পর্নো ও অশ্লীল ছবি ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে। বিভিন্ন দেশে এসব পর্নো সাইট বন্ধ করা হলেও বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর যখন জাগতিক স্বার্থ, বৈষয়িক উন্নতির চিন্তা প্রাধান্য পায়, পরকালে জবাবদিহির ভয় যখন মানুষের মধ্যে হ্রাস পায়, তখন মানুষ কেবল পাপাচারেই জড়ায় না, মানবিক বোধটুকুও হারিয়ে ফেলে। বস্তুত পরকালের ভাবনা মানুষের কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের ভেতর সুপ্রবৃত্তি ও সদগুণাবলি জাগিয়ে তোলে। যার মধ্যে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয় কিংবা পরকালের ভাবনা কাজ করে না, তাকে আইন দিয়ে নিবৃত্ত রাখা কঠিন। তাই সামাজিক সব অপরাধ দমনে অন্য সব উদ্যোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

লেখক : ইসলামী গবেষক

Thursday, April 14, 2016

এই দোয়াটি পড়লে ৭০ হাজার ফেরেস্তা চারদিক থেকে রক্ষা করে!

অনলাইন ডেস্ক:

পবিত্র কোরআন শুধু কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়। মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারেন কেবল পবিত্র কোরআনে কারীম। পবিত্র কোরআনের সূরা তুল বাকারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যেটি নিয়মিত পাঠ করলে ঘরে দারিদ্রতা প্রবেশ করতে পারে না। এই আয়াতকে বিশেষ দোয়াও বলা হয়ে থাকে।

দেখে নিন আয়াতটির (আয়াতুল কুরসি) আরবি উচ্চারণ:


اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহু লাইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইউম, লাতা’খুযুহু সিনাতুওঁ



ওয়ালা নাওম, লাহু মাফিস্* সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরয। মানযাল্লাযি ইয়াশ্*ফাউ ইন্*দাহু ইল্লা বিইযনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমাশাআ ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরযা, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আযীম। (সূরা বাকারঃ ২৫৫)



অর্থ : আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব-জাহানের দায়িত্বভার বহন করছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই ৷ তিনি ঘুমান না এবং তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না ৷ পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু আছে সবই তাঁর ৷ কে আছে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? যা কিছু মানুষের সামনে আছে তা তিনি জানেন এবং যা কিছু তাদের অগোচরে আছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত৷ তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান সেটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না ৷ তাঁর কর্তৃত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপী ৷ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষন তাঁকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত করে না ৷ মূলত তিনিই এক মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা ৷



এবার জেনে নিন ফজিলতঃ

১. এই দোয়া পড়ে বাড়ি থেকে বের হলে ৭০ হাজার ফেরেস্তা চারদিক থেকে রক্ষা করে।

২. নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পড়লে ঘরে দারিদ্রতা প্রবেশ করতে পারেনা।

৩. দোয়টি পড়ে ঘুমাতে গেলে সারারাত একজন ফেরেস্তা তাকে পাহারা দেন।

৪. ফরজ নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্য তার যে দূরত্ব থাকে সেটি হলো মৃত্যু।

৫. ওজু করার পরে এই দোয়া পড়লে আল্লাহর নিকট ৭০ গুন মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৬. আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে কবরের আযাব কমে যায়।

Sunday, April 10, 2016

মহানবী (সা.)-র কোন রঙের কাপড় সবচেয়ে প্রিয় ছিল?

অনলাইন ডেস্ক:

পোশাক-পরিচ্ছদ ছাড়া দেহমনকে যেমন সুস্থ রাখা সম্ভব নয়, তেমনি দেহের জন্য উপযুক্ত খাদ্য আহরণ ছাড়া সম্ভব নয়। প্রকৃতির খেয়ালি অত্যাচার থেকে দেহকে রক্ষা করার জন্য পোশাকের প্রয়োজন।

আপনি জানেন কি, মহানবী (সা.)-র কোন রঙের কাপড় সবচেয়ে প্রিয় ছিল? জানলে ভালো কথা আর না জানলে জেনে নিন মহানবী (সা.)-র সবচেয়ে প্রিয় রঙের কাপড়ের কথা।

মহানবী (সা.) সাদা রঙের কাপড় বা পোশাক প্রিয় ছিল। তিনি বলেন, ‘তোমাদের জন্য



আল্লাহর সামনে যাওয়ার সর্বোত্তম পোশাক সাদা পোশাক।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা) তিনি আরো বলেন, ‘সাদা কাপড় পর এবং সাদা কাপড় দ্বারা মৃতদের কাফন দাও। কেননা এটা অপেক্ষাকৃত পবিত্র ও পছন্দনীয়।’ (আহমদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)

আল্লাহপাক বলেন, ‘হে আদম বংশধরগণ! আমি অবশ্য তোমাদের প্রতি এরূপ পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের আবৃতাঙ্গ আচ্ছাদিত ও সুসজ্জিত করে এবং সংযমশীলতার পরিচ্ছদই উত্তম। ইহা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত, যেন তোমরা স্মরণ কর।’

সাদার পরেই মহানবী (সা.)-র পছন্দনীয় রং ছিল সবুজ। তবে তাতে হালকা সবুজ ডোরা থাকা পছন্দ করতেন। একেবারে নির্ভেজাল লাল পোশাক খুবই অপছন্দ করতেন। (শুধু পোশাক নয়, বরং অন্যান্য জিনিসে লাল রং ক্ষেত্র বিশেষে নিষিদ্ধ করেছেন। তবে হালকা লাল রঙের ডোরাকাটা কাপড় তিনি পরতেন। অনুরূপ হালকা হলুদ (মেটে রং) এর পোশাকও পরেছেন।

Friday, April 8, 2016

নাস্তিকদের অভিনন্দন জাকির নায়েকের!

অনলাইন ডেস্ক:

নাস্তিকদের অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জাকির নায়েক বলেন, নাস্তিকরা ইসলামের অনেকটা কাছাকাছি রয়েছে। কারণ, তারা অন্যান্য ধর্মাম্বলীদের মতো কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। এমনকি তাদের বাপ-দাদারা যে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, তাকেও না। তারা মনে করে বাপ-দাদা যাকে ঈশ্বর মানেন, তিনি ঈশ্বর হতে পারেন না। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মাম্বলী লোকজন কাউকে না কাউকে ঈশ্বর মনে করে। তাদের অনেকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো ধর্মপালন করে। কিন্তু নাস্তিকরা বলে, ‘আমরা কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না।’ এদিকে মুলসমানদের কালিমা হলো ‘আমরা কোনো প্রভু মানি না, তবে আল্লাহ ছাড়া।’

এ হিসাবে মুসলমানরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ঈশ্বর মানে না। আর নাস্তিকরা কাউকে মানে না, আল্লাহকেও না। তাই কাউকে না মানার দিক দিয়ে মুসলিম এবং নাস্তিক সমান। পার্থক্য শুধু আল্লাহকে মানা ও না মানা নিয়ে। অপরদিকে অন্যান্য ধর্মাম্বলীরা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না তবে অন্য ঈশ্বর বিশ্বাস করে। তাই মুসলমান হওয়ার দিক দিয়ে নাস্তিকরা অর্ধেকটা এগিয়ে আছে। তাদের সামনে আল্লাহ বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব তুলে ধরে বিশ্বাস করাতে পারলেই সে মুসলমান হবে।

পক্ষান্তরে একজন ভিন্নধর্মী মানুষ যে আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাকে মুসলমান বানাতে হলে প্রথমে তাকে তার ঈশ্বর যে ভ্রান্ত সেটা বুঝাতে হবে। তারপর আল্লাহর অস্তিত্ব তুলে ধরে বিশ্বাস করাতে হবে। সেই তুলনায় নাস্তিকরা অর্ধেক পথ এগিয়ে আছে।

Tuesday, April 5, 2016

ভূমিকম্পের সময় নিজেকে হেফাজতে রাখতে যা করতে বলেছেন মহানবী (স:)

অনলাইন ডেস্ক:

সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে আল কোরআন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্প কেন ও কিভাবে হয়ে থাকে এই বিষয়েও তথ্য রয়েছে ইসলামী শরিয়ায়।

বিজ্ঞানীরা অগ্রসর হচ্ছেন কোরআনে বর্ণিত সূত্র ধরেই। ভূমিকম্পের



সময় মহানবী (স:) একটি দোয়া পড়তে বলেছেন।

সতর্কতা অবলম্বনের সাথে এই দোয়াটি পড়লে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন আপনি। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, একটি দোয়া রয়েছে যেটি কোন তিনবার পড়বে সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।

দোয়াটি হলো-বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূর`রু মা`আস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামি`ই ওয়াহুয়া সামি`য়ুল আলিম

‘যিকিরের’ সঠিক অর্থ কোনটি?

অনলাইন ডেস্ক:

ইসলামী শরীয়ত মতে ‘যিকির’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনুল কারীমের মধ্যে আল্লাহ তা’য়ালা বিভিন্ন আয়াতে সকাল -সন্ধ্যা যিকিরের কথা বলেছেন। মহানবী (সা.) সদা সর্বদা যিকিরে মগ্ন থাকতেন এবং তিনি বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মাকাম কামনা করে, সে যেন বেশি বেশি যিকির করে’। তিনি আরো বলেছেন: ‘তোমরা আমরণ যিকিরের মাধ্যমে তোমাদের জিহ্বাকে শিক্ত রাখ’।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে ‘যিকির’-এর সঠিক অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। তথাকথিত ‘হক্কানী’ পীর সাহেবগণ জিকিরের হরেক রকম স্টাইল তৈরি করেছেন। কোরআন ও হাদিসের দিক নির্দেশনার বাইরে গিয়ে যে যার ইচ্ছামত বিভিন্ন রকম জিকিরের প্রচলন করেছেন। সাধারণ মানুষ কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে ‘অন্ধের’ মত ‘হুজুর’ কে অনুসরণ করছেন। অনেক মসজিদেই মাগরিবের নামজের পর ‘হালকায়ে জিকিরের’ মাহফিল হবে, আমরা সবাই বসি বহুত ফায়দা হবে শুনে থাকি। কিন্তু এটা কি আদৌ যিকির কি না, আসুন কোরআনের আলোকে একটি বিশ্লেষণ দেখি।

পবিত্র কোরআনুল কারীমের মধ্যে যিকির শব্দটি মোট ২৬৮ বার এসেছে। এর মধ্যে ১৫৪ বার শব্দটি ফে’ল (ক্রিয়া) হিসেবে ব্যবহার হয়েছে আর ১১৪ বার ইসম (বিশেষ্য) হিসেবে। মজার ব্যাপার হলো এই ‘যিকির’ শব্দটির এতই সুক্ষ্ম যে, শুধুমাত্র যের এর পরিবর্তে যাল অক্ষরের উপর যবর দিলেই উচ্চারণ হয় ‘যাকার’ এবং অর্থ দাঁড়ায় ‘পুরুষ’, যেমনটি সুরা আল ইমরানের ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে: 'সেই কন্যার মত কোন পুরুষই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম'।

এখানে আমরা পবিত্র কোরআনুল কারীমের মধ্যে ‘যিকির’ শব্দের বহুবিধ অর্থের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটি অর্থ দেখার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

১। যিকিরের এক নাম্বার অর্থ হলো : ‘আল কোরআন আল কারীম’। এই অর্থের সমর্থনে অনেকগুলো কোরআনের আয়াত আছেঃ ‘আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ (আল কোরআন) অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক’ (১৫:৯) সুতরাং যিনি কোরআন তেলাওয়াত করছেন তিনি মূলত যিকির করছেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ ‘ অতএব, যে




/> আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ দান করুন’।(৫০:৪৫) কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি কখনও তা মনে করি? আপনি যখন কোরআন তেলাওয়াত করেন, তখন যদি আপনাকে কেউ ফোন করে জিজ্ঞাস করে আপনি কি বলেন ‘আমি যিকির করছি’? হিফজখানার ছাত্ররা কি যিকির করছে না? এই আয়াত অনুযায়ী তাফসীরের মাহফিলে কি যিকির হচ্ছে না? যেটাকে আমরা হালাকায়ে যিকিরের নাম দিয়েছি তাতে কি কোরআনের দ্বারস্থ হয়? কোরানের আয়াত তেলাওয়াত করে ব্যাখ্যা করা হয়? যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে তো আমরা যিকিরকে ভুল অর্থেই ব্যবহার করলাম।

২। যিকিরের দুই নাম্বার অর্থ হলো : ‘উপদেশ’/ নসিহাত করা। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন: ‘অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ দান করুন’। (৫০:৪৫) ‘এবং আপনি নসিহাত করতে থাকুন; কেননা, নসিহাত মুমিনদের উপকারে আসবে’ (৫১:৫৫)। সুতরাং প্রত্যেকটি ওয়াজ মাহফিল ই তো যিকিরের মাহফিল। আমার মনে হয়, খুব কম মানুষই আছে যারা যিকিরের এই অর্থ জানে বা মানে।

৩। যিকিরের তিন নাম্বার অর্থ হলো : ‘নামাজ’। আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ ‘মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের (নামাজের) পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ’(৬২:৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ ‘তখন সে বলল: আমি তো আমার পরওয়ারদেগারের যিকির থেকে বিস্মৃত হয়ে (আসর নামাজ থেকে) সম্পদের মহব্বতে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি-এমনকি সূর্য ডুবে গেছে’।(৩৮:৩২)

৪। যিকিরের চার নাম্বার অর্থ হলো : ‘আল্লাহর বিধান’। আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ ‘এবং যে আমার স্মরণ থেকে/ বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব’।(২০:১২৪)

৫। যিকিরের পাঁচ নাম্বার অর্থ হলঃ ‘স্মরণ করা বা উল্লেখ করা: ‘আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।(১৯:১৬)

৬। যিকিরের আর এক অর্থ হলো ‘মর্যাদা’ : আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ ‘আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবর্তীর্ণ করেছি; এতে তোমাদের জন্য যিকির (মর্যাদা) রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না? (২১:১০), ‘এটা আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্যে যিকির (মর্যাদা) হয়ে থাকবে এবং শীঘ্রই আপনারা জিজ্ঞাসিত হবেন’।(৪৩:৪৪)

৭। যিকিরের আর এক অর্থ হলো : ‘আল্লাহকে ডাকা, স্মরণ করা, যিকির করা’। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : ‘অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান,উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়।নিশ্চয় নামাজ মুসলমানদের উপর ফরজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে’।(৪:১০৩)‘মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর’।(৩৩:৪১)

এখানে যে অর্থগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা অধিকাংশ মুফাসসিরীণদের মতামত এবং এই অর্থ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন দ্বিমত নেই। প্রশ্ন হলো এই অর্থ গুলোর মধ্যে কোনটি এক নাম্বার? আমি বলব অবশ্যই প্রথমটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটিই নম্বার ওয়ান। কারণ হিসেবে আমি মিসরের একজন বিখ্যাত গবেষক মোস্তফা ফাহমীর ওয়েব সাইট থেকে তথ্য উল্লেখ করছি।

তিনি বলেছেনঃ ‘কোরআনুল কারীমের মধ্যে প্রায় ১২টা সুরার মধ্যে প্রায় ৫০টি আয়াত আছে যেখানে এই ‘যিকির’ এর পরে নবী-রাসুল, অহী, পূর্ববর্তী কিতাব, উল্লেখ আছে এবং এর দ্বারা ওই কিতাব এর মাধ্যমে উপদেশের কথা বলা হচ্ছে। সুতরাং ‘যিকির’ মানে হরো ‘এমন উপদেশ যা কিতাবের মাধ্যমে দেয়া হয়, এমন নিয়মনীতি যা কিতাবে উল্লেখ আছে।

সুতরাং যার সাথে কিতাবের সম্পর্ক আছে তাই যিকির, যা কিতাবের বাইরে তা যিকির নয়’। তাঁর এই যুক্তির পক্ষে আরও একটি গবেষণা পাওয়া যায় যে, হুরুফুল মুকাত্তায়াত (বিচ্ছিন্ন আক্ষর) বলতে কি বোঝায়? অনেক উত্তরের মধ্যে আমার মনে হয় ওই উত্তরটাই অধিকতর সঠিক, যারা বলেছেন ‘এর দ্বারা কোরআনের মুজি’যা বোঝানো হয়েছে’। কারণ হলো মোট ২৯টি সুরার মধ্যে ২৭টি সুরাতেই এই হুরুফুল মুকাত্তা’আত, এরপর ‘কোরআনের’ কথা উল্লেখ আছে।

(লেখক : আল আযহার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট ও ইমাম, মাসজিদ সেন্ট মেরিস, সিডনী। )

ইয়াজুজ-মাজুজ কারা ? এরা কোথায় আছে?

অনলাইন ডেস্ক:

ইয়াজুজ-মাজুজ কারা ? এরা কোথায় আছে? এবং যে ভাবে আবির্ভাব হবে!

কিয়ামত নিকটবর্তী হবার পর অপর একটি বড় আলামত হল পৃথিবীতে ইয়াজুজ-মাযুয নামে দুটি চরম অত্যাচারী গোত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। হযরত ঈসা (আঃ) অবতরনের পর এই জাতি দুটির প্রকাশ ঘটবে। ফাতাহুল বারী র ৬ষ্ঠ খন্ডে হযরত কাতাদা (রাঃ) বলেন এরা মানুষের আকৃতি হবে এবং হযরত নুহ (আঃ) এর পুত্র ইয়াকা এর বংশধর থেকে হবে। তাফসীরে তাবারী গ্রন্থ মতে তারা পৃথিবীর উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা হবে, বর্তমানের আরমেনিয়া ও আযারবাইযানের পাশাতবাগ তাদের আবাসস্থল উল্লেখ্য করা হয়।



ইয়াজুজ-মাযুয দেখতে মানুষের মত কিন্তু তাদের স্বভাব হবে চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। দেহের সন্মুখ ভাগ মানূষের ন্যায় কিন্তু পিছনের ও নিম্নভাগ চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। দুনিয়ের এক সীমান্তে এরা বাস করে। এরা মানুষ বৃক্ষলতা সব ভক্ষন করে। এক সময় মানুষ জাতির ওপর এরা ভীষন অত্যাচার চালাত। হযরত শাহ সেকান্দার সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মান করে মানব এলাকায় আসার পথ বন্ধ করে দেয়।

ওরা উক্ত প্রাচীরটি জিহ্বা দ্বারা প্রতিদিন চাটতে থাকে আবার সন্ধ্যার সময় উক্ত প্রাচীর আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত যায় মানে পূর্নাঙ্গ অবস্থা লাভ করে। এভাবে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। কিন্তু হঠাৎ একদিন এ দেয়াল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তখনই ইয়াজুজ-মাযুযের দল স্রোতের ন্যায় মানুষের এলাকায় ডুকে পড়বে। তারা সব কিছু খেয়ে ফেলবে। পানির পিপাসায় তারা দুনিয়ার সব সাগর মহাসাগরের সব পানি খেয়ে ফেলবে। তাদের দৌরাত্মে দুনিয়া তছনছ হয়ে যাবে। এমত অবস্থায় হযরত ঈসা (আঃ) মুসলমানদের নিয়ে দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। দেখা দেবে মহামারী সে মহামারীতে এই অত্যাচারী সম্প্রদায় ধ্বংশ হয়ে যাবে।

পবিত্র কোরানে সুরা কাহফে ৯৪-৯৯ আয়াতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা আছে।

قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا 94
তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।

قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا 95
তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থø দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।

آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا 96
তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।

فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا 97
অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।

قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي فَإِذَا جَاء وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاء وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا 98
যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا 99
আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।
সুরা আম্বিয়া ৯৬ নং আয়াত।
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ 96
যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।
কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে “ইয়াজুজ-মাজুজ”-এর উত্থান অন্যতম। কিন্ত আমাদের অনেকেই ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে জানা তো দূরে থাক,এদের নামই শোনেন নি! এ কারণেই খুব সংক্ষেপে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে কিছু লেখা হল।

☞ ইয়াজূজ মাজূজ সম্প্রদায় আদম (আঃ)-এর বংশধর। তারা ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ঈসা (আঃ)-এর সময় পৃথিবীতে উত্থিত হবে।

☞ শাসক যুলক্বারনাইন তাদেরকে এখন প্রাচীর দিয়ে আটকিয়ে রেখেছেন (সূরা কাহফ, আয়াত ৯২-৯৭)।

[এখানে একটা কথা বলে রাখি,অনেকেই হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে এটা মনে করেন যে যুলক্বারনাইন হচ্ছেন আলেকজান্ডার,এবং তিনি একজন নবী। প্রকৃতপক্ষে,এটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, যুলক্বারনাইন মুমিন ছিলেন আর আলেকজান্ডার কাফের। আর প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী,যুলক্বারনাইন নবী ছিলেন না,ছিলেন এক সৎ ঈমানদার বাদশা। পৃথিবীর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভ্রমণ করেছেন বলে তাঁকে যুলক্বারনাইন বলা হয়।]

☞ ঐ প্রাচীর ভেঙ্গে তারা সেদিন বেরিয়ে আসবে এবং সামনে যা পাবে সব খেয়ে ফেলবে। এমনকি তাদের প্রথম দলটি নদীর পানি খেয়ে শেষ করে ফেলবে এবং শেষদলটি এসে বলবে ‘হয়ত এখানে কোন একসময় নদী ছিল’ । তাদের সাথে কেউ লড়াই করতে পারবে না।

☞ এক সময় তারা বায়তুল মুক্বাদ্দাসের এক পাহাড়ে গিয়ে বলবে,”দুনিয়াতে যারা ছিল তাদের হত্যা করেছি। এখন আকাশে যারা আছে তাদের হত্যা করব।” তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন।

☞ এসময় ঈসা (আঃ) তাদের জন্য বদদো‘আ করবেন। এতে স্কন্ধের দিক থেকে এক প্রকার পোকা সৃষ্টি করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে ধ্বংস করবেন। তারা সবাই মারা যাবে ও পঁচে দুর্গন্ধ হবে। সারা পৃথিবী জুড়ে তাদের লাশ থাকবে । আল্লাহ শকুন পাঠাবেন। লাশগুলোকে তারা নাহবাল নামক স্থানে নিক্ষেপ করবে। মুসলিমরা তাদের তীর ও ধনুকগুলো ৭ বছর জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করবে।

( বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫) ।

পরিচয়ঃ

ইয়াজুজ মাজুজ এরা তুরস্কের বংশোদ্ভুত দুটি জাতি। কুরআন মাজীদে এ জাতির বিস্তারিত পরিচয় দেয়া হয়নি। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে তাদের নাক চ্যাপ্টা, ছোট ছোট চোখ বিশিষ্ট। এশিয়ার উত্তর পুর্বাঞ্চলে অবশিত এ জাতির লোকেরা প্রাচীন কাল হতেই সভয় দেশ সমুহের উপর হামলা করে লুটতরাজ চালাত। মাঝে মাঝে এরা ইউরোপ ও এশিয়া উভয় দিকে সয়লাবের আকারে ধবংসের থাবা বিস্তার করতো।
বাইবেলের আদি পুস্তকে(১০ম আধ্যায়ে) তাদেরকে হযরত নুহ (আ:) এর পুএ ইয়াকেলের বংশধর বলা হয়েছে। মুসলিম ঐতিহাসিক গন ও একথাই মনে করেন রাশিয়া ও ঊওর চীনে এদের অবস্থান বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে অনুরুপ চরিত্রের কিছু উপজাতি রয়েছে যারা তাতারী, মঙ্গল, হুন ও সেথিন নামে পরিচিত।
তাছাডা একথাও জানা যায় তাদের আক্রমন থেকে আত্নরক্ষার জন্ন ককেম্পসের দক্ষিণাঞ্চলে দরবন্দ ও দারিয়ালের মাঝখানে প্রাচীর নির্মান করা হয়েছিল। ইসরাঈলী ঐতিহাসিক ইউসীফুল তাদেরকে সেথীন জাতি মনে করেন এবং তার ধারণা তাদের এলাকা কিষ্ণ সাগরের উওর ও পুর্ব দিকে অবস্থিত ছিল। জিরোম এর বর্ণনামতে মাজুজ জাতির বসতি ছিল ককেশিয়ার উওরে কাস্পিয়ান সাগরের সন্নিকটে।




ইয়াজূজ এবং মাজূজের উদ্ভব…

● ইয়াজূজ এবং মাজূজ হচ্ছে আদম সন্তানের মধ্যে দু-টি গোত্র, যেমনটি হাদিসে এবং বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ অস্বাভাবিক বেঁটে, আবার কিছু অস্বাভাবিক লম্বা। কিছু অনির্ভরযোগ্য কথাও প্রসিদ্ধ যে তাদের মাঝে বৃহৎ কর্ণবিশিষ্ট মানুষও আছে, এক কান মাটিতে বিছিয়ে এবং অপর কান গায়ে জড়িয়ে বিশ্রাম করে।

● বরং তারা হচ্ছে সাধারণ আদম সন্তান। বাদশা যুলকারনাইনের যুগে তারা অত্যধিক বিশৃঙ্খল জাতি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। অনিষ্টটা থেকে মানুষকে বাঁচাতে যুলকারনাইন তাদের প্রবেশ পথ বৃহৎ প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন।

● নবী করীম (সা:) বলে গেছেন যে, ঈসা নবী অবতরণের পর তারা সেই প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ্‌র আদেশে ঈসা (আ:) মুমিনদেরকে নিয়ে তূর পর্বতে আশ্রয় নেবেন।

অতঃপর স্কন্ধের দিক থেকে এক প্রকার পোকা সৃষ্টি করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে ধ্বংস করবেন। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

ঐতিহাসিক সেই প্রাচীর নির্মাণ:
● যুলকারনাইনের আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ পাক বলেন- আবার সে পথ চতলে লাগল। অবশেষে যখন সে দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে পৌঁছল, তখন সেখানে এক জাতিকে পেল, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বলল: হে যুলকারনাইন! ইয়াজূজ ও মাজূজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্য কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। সে বলল: আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব। তোমরা লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন সে বলল: তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন সে বলল: তোমরা গলিত তামা নিয়ে এসো, আনি তা এর উপর ঢেলে দেই। অতঃপর ইয়াজূজ ও মাজূজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেগ করতেও সক্ষম হল না…[সূরা কাহফ, আয়াত ৯২-৯৭]

কে সে যুলকারনাইন?
● তিনি হচ্ছেন এক সৎ ইমানদার বাদশা। নবী ছিলেন না (প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী), পৃথিবীর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভ্রমণ করেছেন বলে তাঁকে যুলকারনাইন বলা হয়। অনেকে আলেকজান্ডারকে যুলকারনাইন আখ্যা দেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। কারন, যুলকারনাইন মুমিন ছিলেন আর আলেকজান্ডার কাফের। তাছাড়া তাদের দুজনের মধ্যে প্রায় দুই হাজার বৎসরের ব্যবধান। (আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন)

● বিশ্ব ভ্রমণকালে তিনি তুর্কী ভূমিতে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সন্নিকটে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছেছিলেন। এখানে দুটি পাহাড় বলতে ইয়াজূজ-মাজূজের উৎপত্তিস্থল উদ্দেশ্য, যেখান দিয়ে এসে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত, ফসলাদি বিনষ্ট করত। তুর্কীরা যুলকারনাইন সমীপে নির্ধারিত ট্যাক্সের বিনিময়ে একটি প্রাচীর নির্মাণের আবেদন জানাল। কিন্তু বাদশা যুলকারনাইন পার্থিব তুচ্ছ বিনিময়ের পরিবর্তে আল্লাহ্‌র প্রতিদানকে প্রাধান্য দিলেন। বললেন- ঠিক আছে! তোমরা আমাকে সহায়তা করো! অতঃপর বাদশা ও সাধারণের যৌথ পরিশ্রমে একটি সুদৃঢ় লৌহ প্রাচীর নির্মিত হল। ইয়াজূজ-মাজূজ আর প্রাচীর ভেঙে আসতে পারেনি।

ইয়াজূজ-মাজূজের ধর্ম কি? তাদের কাছে কি শেষনবীর দাওয়াত পৌঁছেছে?

● পূর্বেই বলা হয়েছে যে, তারা হচ্ছে আদম সন্তানেরই এক সম্প্রদায়। হাফেয ইবনে হাজার (রহ:) এর মতে- তারা নূহ (আ:) এর পুত্র ইয়াফিছের পরবর্তী বংশধর।

● ইমরান বিন হুছাইন (রা:) থেকে বর্ণিত, কোন এক ভ্রমণে আমরা নবীজীর সাথে ছিলাম। সাথীগণ বাহন নিয়ে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। নবীজী উচ্চকণ্ঠে পাঠ করলেন- হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্য-ধাত্রী তার দুধের শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুত: আল্লাহ্‌র আযাব বড় কঠিন…[সূরা হাজ্ব, আয়াত:১-২] নবীজীর উচ্চবাচ্য শুনে সাহাবিগণ একত্রিত হতে লাগলেন, সবাই জড়ো হলে বলতে লাগলেন- তোমরা কি জান-আজ কোন দিবস? আজ হচ্ছে সেই দিবস, যে দিবসে আদমকে লক্ষ্য করে আল্লাহ্‌ বললেন: জাহান্নাম বাসী বের কর! আদম বলবে: জাহান্নাম বাসী কে হে আল্লাহ্‌…!?আল্লাহ্‌ বলবেন- প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামে আর একজন শুধু জান্নাতে!! নবীজীর কথা শুনে সাহাবীদের চেহারায় ভীতির ছাপ ফুটে উঠল। তা দেখে নবীজী বলতে লাগলেন- আমল করে যাও! সুসংবাদ গ্রহণ কর! সেদিন তোমাদের সাথে ধ্বংস-শীল আদম সন্তান, ইয়াজূজ-মাজূজ এবং ইবলিস সন্তানেরাও থাকবে, যারা সবসময় বাড়তে থাকে (অর্থাৎ ওদের থেকে ৯৯৯ জন জাহান্নামে, আর তোমাদের থেকে একজন জান্নাতে), সবাই তখন আনন্দ ও স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল। আরো বললেন- আমল করে যাও! সুসংবাদ গ্রহণ কর! ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত! মানুষের মাঝে তোমরা সেদিন উটের গায়ে ক্ষুদ্র চিহ্ন বা জন্তুর বাহুতে সংখ্যা চিহ্ন সদৃশ হবে…[তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ]

● অর্থাৎ হাশরের ময়দানে ইয়াজূজ-মাজূজ, পর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি এবং ইবলিস বংশধরদের উপস্থিতিতে তোমাদেরকে মুষ্টিমেয় মনে হবে। ঠিক উটের গলায় ক্ষুদ্র চিহ্ন আঁকলে যেমন ক্ষুদ্র দেখা যায়, হাশরের ময়দানেও তোমাদের তেমন দেখাবে।

ইয়াজূজ-মাজূজের সংখ্যাধিক্য:
● আব্দুল্লাহ্‌ বিন আমর (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- ইয়াজূজ-মাজূজ আদম সন্তানেরই একটি সম্প্রদায়। তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলবে। তাদের একজন মারা যাওয়ার আগে এক হাজার বা এর চেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে যায়। তাদের পেছনে তিনটি জাতি আছে-তাউল, তারিছ এবং মাস্ক…[তাবারানী]

দৈহিক গঠন:
● খালেদ বিন আব্দুল্লাহ্‌ আপন খালা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- একদা নবী করীম (সা:) বিচ্ছু দংশনের ফলে মাথায় ব্যান্ডেজ বাধাবস্থায় ছিলেন। বললেন- তোমরা তো মনে কর যে, তোমাদের কোন শত্রু নেই! (অবশ্যই নয়; বরং শত্রু আছে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে) তোমরা যদ্ধু করতে থাকবে। অবশেষে ইয়াজূজ-মাজূজের উদ্ভব হবে। প্রশস্ত চেহারা, ক্ষুদ্র চোখ, কৃষ্ণ চুলে আবছা রক্তিম। প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে তারা দ্রুত ছুটে আসবে। মনে হবে, তাদের চেহারা সুপরিসর বর্ম…[মুসনাদে আহমদ, তাবারানী]

অর্থাৎ মাংসলতা ও স্থূলতার ফলে তাদের চেহারা বর্ম সদৃশ দেখাবে।

যে ভাবে প্রাচীর ভেঙে যাবে:
● যুলকারনাইনের নির্মিত সুদৃঢ় প্রাচীরের দরুন দীর্ঘকাল তারা পৃথিবীতে আসতে পারেনি। প্রাচীরের ওপারে অবশ্যই নিজস্ব পদ্ধতিতে তারা জীবন যাপন করছে। তবে আদ্যাবধি তারা সেই প্রাচীর ভাঙতে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

● আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, প্রাচীরের বর্ণনা দিতে গিয়ে নবী করীম (সা:) বলেন- অতঃপর প্রতিদিন তারা প্রাচীর ছেদন কার্যে লিপ্ত হয়। ছিদ্র করতে করতে যখন পুরোটা উন্মোচনের উপক্রম হয়, তখনই তাদের একজন বলে, আজ তো অনেক করলাম, চল! বাকীটা আগামীকাল করব! পরদিন আল্লাহ্‌ পাক সেই প্রাচীরকে পূর্বের থেকেও শক্ত ও মজবুত রূপে পূর্ণ করে দেন। অতঃপর যখন সেই সময় আসবে এবং আল্লাহ্‌ পাক তাদেরকে বের হওয়ার অনুমতি দেবেন, তখন তাদের একজন বলে উঠবে, আজ চল! আল্লাহ্‌ চাহেন তো আগামীকাল পূর্ণ খোদাই করে ফেলব! পরদিন পূর্ণ খোদাই করে তারা প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। মানুষের ঘরবাড়ী বিনষ্ট করবে, সমুদ্রের পানি পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে। ভয়ে আতঙ্কে মানুষ দূরে দূরান্তে পলায়ন করবে। অতঃপর আকাশের দিকে তারা তীর ছুড়বে, তীর রক্তাক্ত হয়ে ফিরে আসবে…[তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরাকে হাকিম

Saturday, April 2, 2016

দুর্নীতি প্রতিরোধে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক:

মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন বা সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ। সমাজ থেকে শিরক-বিদআতসহ প্রচলিত নানা কুকর্ম-অপকর্ম ও দুর্নীতি দূর করে একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠন করেছিলেন তিনি। রসুল (সা.) জনসমক্ষে দুর্নীতির ভয়াবহ কুফল তুলে ধরে সুনীতি চর্চার সুফল ও কল্যাণ হাতেকলমে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে রসুল (সা.) নানামুখী কর্মকৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

অন্তরাত্মার পরিশুদ্ধি, নীতিসম্মত কাজ তথা সত্কর্মে উৎসাহদান, দুর্নীতির কঠোর পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা ও সর্বশেষ শাস্তির ব্যবস্থা, তার দুর্নীতিবিরোধী কর্মকৌশল ছিল বিশ্বজনীন ও শতভাগ বাস্তবসম্মত। মানুষের কর্মের উৎস তার অন্তকরণ বা কলব। স্বচ্ছ ও নির্মল অন্তঃকরণে নীতি-নৈতিকতাবিরোধী কোনো পরিকল্পনা অসম্ভব। তাই তিনি সর্বপ্রথম মানুষের অন্তঃকরণ স্বচ্ছ, নির্মল ও পরিশুদ্ধ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন— ‘মানবদেহে রয়েছে একটি মাংসপিণ্ড সেটি সুস্থ থাকলে পুরো দেহ সুস্থ থাকে আর সেটি বিনষ্ট হলে পূর্ণ দেহ বিনষ্ট। সেটি হলো কালব বা অন্তঃকরণ।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীগুলো ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে প্রাণ পেয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী, ‘সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি যে তার অন্তরকে শুদ্ধ করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে সে যে সেটা অকার্যকর রেখেছে।’ (আল কোরআন-৯১:৯-১০)। মহান আল্লাহ আরও বলেন— ‘ওই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে’। (আল কোরআন-৮৭:১৪)। এভাবে তিনি মানুষের হৃদয়-মনকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে একে সত্কর্ম ও সদুপদেশ গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র হিসেবে গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে কোনোরূপ নীতিবিরুদ্ধ কাজ অন্তরে প্রশ্রয় পেতে না পারে।

সুন্দর জীবন গঠনের মাধ্যমে ইহ-পরকালের কল্যাণ লাভের ক্ষেত্রে নীতিসিদ্ধ ও সৎ কাজ সম্পাদনের বিকল্প নেই। তিনি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী প্রচার করেছেন— ‘মুমিন পুরুষ কিংবা নারী যে কেউ সত্কর্ম করবে আমি তাকে নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দিব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।’ (আল কোরআন-১৬:৯৭)। এভাবে অসংখ্য আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে তিনি সুনীতি ও সত্কর্মে উৎসাহিত করেছেন। যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এটা ছিল রসুল (সা.)-এর দুর্নীতি প্রতিরোধী অন্যতম কার্যকরী কর্মকৌশল।

Friday, April 1, 2016

ইমামের কেরাত পাঠ ভুল হলে মুসল্লিদের করণীয়

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ:

প্রশ্ন:
অনেক সময় ইমামের কেরাত পাঠে ভুল হয়। অর্থাৎ তার কেরাত ভুল ও অশুদ্ধ হয়। এই ধরণের ভুলে কি নামাজ হয়? এক্ষেত্রে মুসল্লিদের করণীয় কী?

উত্তর:
তাজবীদসম্মত কেরাত হওয়া জরুরি, কিন্তু কেরাতের যে কোনো প্রকার ভুলের কারণেই নামাজ নষ্ট হয়ে যায় না; বরং কেরাত অশুদ্ধ পড়ার কারণে যদি তার অর্থের মধ্যে এমন বিকৃতি ঘটে যা কুরআনে বর্ণিত ঘটনা বা তথ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অথবা ভুলের কারণে যে অর্থ সৃষ্টি হয়েছে তা যদি ঈমান পরিপন্থী কথায় পরিণত হয় তাহলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

তাই ইমামের কেরাতের ভুলের ক্ষেত্রে নিজ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিজ্ঞ আলেম বা কোনো মুফতী সাহেবকে ঐ অশুদ্ধ কেরাতের ধরন জানিয়ে এর হুকুম জেনে নেওয়া জরুরি। এতে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া থেকে বাঁচা যাবে।

যদি বাস্তবেই প্রমাণিত হয় যে, ইমামের কেরাত এমন অশুদ্ধ, যার দ্বারা নামাজ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে একাকী সেই নামাজ আবারও পড়ে নিতে হবে। -(সহীহ বুখারী ১/৭৬; ফাতহুল বারী ২/১৮; জামে তিরমিযী ১/৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৯;)

পর্দা নারী পুরুষ উভয়ের উপরই ফরজ

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ:

ইসলাম ধর্ম শুধু নারীর ওপর পর্দা ফরজ করেনি। বরং নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর এ সম্পর্কিত বিধান সমানভাবে ফরজ করেছে। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “হে বনী আদম! তোমাদের শরীরের লজ্জাস্থানগুলো ঢাকার এবং তোমাদের দেহের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বিধানের উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি। আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম।

এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম, সম্ভবত লোকেরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।”-(আরাফ:২৬)

এই আয়াতে আল্লাহ শুধু পুরুষদেরকে তাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার কথা বলেননি। রবং নারী পুরুষ উভয়কে তাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতে বলেছেন। সুতরাং পর্দা শুধু নারীর উপর ফরজ নয়। আল্লাহপাকের এই বিধান নারী পুরুষ সকলের উপর প্রযোজ্য। আমাদের সমাজে ধর্মীয় গোঁড়ামি, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে নারীদেরকে পুরুষের চাপিয়ে দেওয়া অনেক বিধানের যাঁতাকলে স্পৃৃষ্ট হতে হয়।

যদিও শরিয়তের ওই বিধানাবলি পুরুষের জন্যও প্রযোজ্য। ইসলামের এমনই একটি অবশ্যপালনীয় বিধান হলো পর্দা, যা নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর আরোপিত হয়েছে। কিন্তু যুগে যুগে এই পর্দাপ্রথা নারীর ওপর কঠোরভাবে পালনের নামে নারীকে বস্তুত কারাগারের ন্যায় অন্ধকার জীবন যাপনে বাধ্য করা হয়েছে।

দুনিয়ার চারদিকে আল্লাহর যেসব অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে এবং যেগুলো মহাসত্যের সন্ধান লাভের ব্যাপারে মানুষকে সাহায্য করে, পোশাকের ব্যাপারটিও তার অন্যতম। মানুষের পোশাক কেবলমাত্র তার লজ্জাস্থান আবৃত করার এবং তার শারীরিক শোভাবর্ধন ও দেহ সংরক্ষণের উপায় হবে এতটুকুই যথেষ্ট নয়। আসলে এ ব্যাপারে তাকে অন্তত এতটুকু মহত্তর মানে পৌঁছতে হবে, যার ফলে তার পোশাক তাকওয়ার পোশাকে পরিণত হয়। অর্থাৎ তার পোশাক দিয়ে সে পুরোপুরি ‘সতর’ তথা শরীরের যেসব অংশ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা ঢেকে ফেলবে। সৌন্দর্য চর্চা ও সাজসজ্জার মাধ্যমে শরীরের শোভা বর্ধন করার ক্ষেত্রে তা সীমা অতিক্রম করে যাবে না বা ব্যক্তির মর্যাদার চেয়ে নিম্ন মানেরও হবে না।

আজান না দিয়ে অফিসে জামাত করা কি জায়েয?

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ:

বিভিন্ন অফিসে নিয়মিত জোহর, আছর, আবার কখনো মাগরিবের নামাজ হয়ে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ সময় আজান হয় না। নামাজের আগে এসে শুধু ইকামাত দিয়ে নামাজ পড়া হয়।

আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টি বা অন্য কোন কারণে আমরা কয়েকজন মিলে আমাদের বাসাতেই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে থাকি। জানার বিষয় হচ্ছে, আযান না দিয়ে অফিসে কিংবা বাসায় জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা জায়েয হবে কি?

উত্তর: বাসা বা অফিসে জামাতের জন্য মহল্লার মসজিদের আযানই যথেষ্ট। তাই অফিসে আযান না দিয়েও জামাতে নামাজ পড়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রেও আযান দেওয়া মুস্তাহাব।

উল্লেখ্য, ছাতার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ বৃষ্টির কারণে মসজিদের জামাত ত্যাগ করা উচিত নয়। কেবল প্রবল বর্ষণের ক্ষেত্রেই মসজিদের জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে।-(মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৩৫৯; মাবসূত, সারাখসী ১/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫;)